Thursday, November 21, 2013

Jagannath Temple, Comilla

চলতি পথে দেখাঃ কুমিল্লার জগন্নাথ মন্দির

বেশ অনেক দিন থেকে কুমিল্লাতে থাকা হচ্ছে। সাপ্তাহিক ছুটিরদিন গুলিতে কুমিল্লাতে থাকা হয়না, ঢাকায় চলে আসি। কুমিল্লাতে আসার পর থেকে, এই রুটিন আমি নিয়মিত ফলো করে যাচ্ছি। সপ্তাহের মাঝে ছুটি থাকলেও আমার এই রুটিনের হেরফের হয় নি।  স্বাধীনতা দিবসের এই ছুটিতে রুটিনের ব্যাতিক্রম ঘটালাম, রয়ে গেলাম কুমিল্লায়।  কুমিল্লা শহরের আশে পাশে বেশ কিছু জনপ্রিয় প্রত্নত্বাত্তিক নিদর্শন ও ঐতিহাসিক স্থান রয়েছে। ময়নামতি বুদ্ধ বিহার, রানীর মঠ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সেমেটারি-বেশ পরিচিত নাম।

এই নিদর্শন গুলি ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ে থেকে সহজে যাতায়াত করা যায়, তাই এসব স্থানে দর্শনার্থীদের ভীড় বেশী। কুমিল্লাতে এইসব পরিচিত জায়গার বাইরেও একটি গুরুত্বপুর্ন প্রত্নত্বাত্তিক স্থাপনা আছে। জগন্নাথপুরের জগন্নাথ মন্দির। শহরের পুর্বে বিবির বাজার সীমান্তবর্তী স্থল বন্দর যাওয়ার পথে এই মন্দিরের চুড়া দেখা যায়। এই ছুটিতে আমার গন্তব্য জগন্নাথপুর।



জগন্নাথপুর কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের পুর্ব সীমা ঘেষে একটি গ্রাম, এই গ্রামের উপর দিয়ে কুমিল্লা-বিবির বাজার সড়ক , বিবির বাজার সীমান্ত অবধি গেছে। জগন্নাথ মন্দিরটি শহর থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে জগন্নাথপুরে অবস্থিত। এই মন্দিরটি হিন্দু দেবতা জগন্নাথের প্রতি উতসর্গকৃত, তাঁর নাম অনুসারে গ্রামের নাম জগন্নাথপুর। মন্দিরটি জগন্নাথপুর মন্দির, জগন্নাথ দেবের  মন্দির বা সংক্ষেপে "জগন্নাথ মন্দির" নামে সবচেয়ে বেশী পরিচিত।  "সপ্তরত্ন" মন্দির নামেও এর পরিচিতি আছে।   



জগন্নাথ মন্দির, কুমিল্লা তথা বাংলাদেশের অন্যতম পুরোনো মন্দির ও হিন্দু ধর্মীয় স্থাপনা। মুল মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন, ত্রিপুরার "শ্রী শ্রীযুক্ত মহারাজা" রাধা কিশোর মানিক্য  বাহাদুর। মন্দিরটির নির্মান কাজের সঠিক সময়কাল জানতে পারিনি। তবে মহারাজা রাধা কিশোর মানিক্য বাহাদুরের রাজত্ব্যের সময় ও মন্দিরের দেয়ালে অলংকৃত টেরাকোটার ডিজাইন দেখে ধারনা করা হয়, এটি ষোড়শ শতকের স্থাপত্যকর্ম। 

যখন আমি পৌছাই, তখন প্রায় দুপুর। দুপুরের আলোয় মন্দিরের সম্মুখভাগ

উইকিপিডিয়ার প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী এই মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত জগন্নাথ, বলরাম, ও সুভদ্রার মুর্তি প্রকৃত পক্ষে ত্রিপুরার একটি মন্দিরে স্থাপিত ছিল। পরবর্তীতে মুর্তিগুলি এই মন্দিরে নিয়ে  আসা হয়। 

চারতলা বিশিষ্ট উপরে ত্রিকোনাকার এই মন্দিরের একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য আছে, এটি বাংলাদেশের একমাত্র মন্দির যা, অষ্টভুজ আকৃতির ভিত্তির উপর তৈরী। প্রত্যেক তলার বাহিরের অংশ জ্যামিতিক ভাবে অষ্টভুজের আকৃতির অনুসরন করা হয়েছে। কথিত আছে, এই মন্দিরের নিচেও আরেকটি তোলা আছে, যা কালক্রমে মাটির নিচেদেবে গেছে- আমার কাছে এই কথাটির ভিত্তি বেশ দুর্বল- এটা গুজব।মন্দেরের পাশের দীঘিটি মন্দিরের মত পুরোনো। ব্রিটিশ লাইব্রী থেকে পাওয়া ১৮৬৩ সালের স্কেচেও এই পুকুরটি দেখানো হয়েছে।  মন্দিরের নিচ তলা ও প্রথম তলার টেরাকোটা গুলো সম্ভবত নস্ট হয়ে গেছে। কিছু লতা পাতাফুলের টেরাকোটা দ্বিতীয় তলা ও উপরের ত্রিকোনাকার টাওয়ারের গায়ে দেখা যায়। 

ব্রিটিশ লাইব্রেরী



মন্দির থেকে রথ যাত্রা হয়ে থাকে, মন্দিরের পুর্ব পাশের এক ছাউনীতে তিনটা রথের বাহন রয়েছে। এই পাথুরে স্থাপনাটি বাংলাদেশ প্রত্নত্বত্ত অধিদপ্তরের স্বীকৃত পুরাকীর্তি। বর্তমানে পুরনো মন্দিরের পাশে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘের-ISKCON তত্তাবধায়নে নতুন মন্দির ও আশ্রম হয়েছে।





দেখতে সাধারন কিন্তু গুরুত্বপুর্ন এই স্থাপনাটি দেখতে যাওয়ার সবচেয়ে ভাল উপায় হচ্ছে, শহরের চকবাজার এসে ব্যাটারী ট্রাইক ভাড়া নিয়ে জগন্নাথপুর চলে যাওয়া।দল বেধে যাওয়া সবচেয়ে ভাল বুদ্ধি। ট্রাইকগুলিতে একসাথে ৫ জন ধরে, ১০-১৫ টাকা ভাড়া নেয়। 

২৬.০৩.২০১৩
__________

Monday, November 18, 2013

প্রিয় বর্ষা, প্রিয় বৃষ্টি

আমার শৈশবের সবচেয়ে আনন্দের সময় ছিল প্রতিদিন বিকাল বেলা আছরের আজান দেওয়ার সাথে সাথে গায়ে কোনরকমে জামা চাপিয়ে, প্রায়ই খালি পায়ে বাসা থেকে বের হয়ে যেতাম মাঠের দিকে  আছর থেকে মাগরিবের ওয়াক্ত পর্যন্ত সময়টা আমার আর আমার মতো শিশুদের জন্য। আমার ধারনা আমার মতো অনেকেই আছেন যারা  প্রতিদিনই বিকালের এই সময়টাজন্য আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষায় থাকতেন, কখন আজান পরবে, মাইকে আজান শোনার সাথে সাথে  ঘর থেকে বের হয়ে যাওয়া
প্রতিদিন বৃষ্টি জন্য বর্ষাকাল ছিল আরো আনন্দের। প্রাইমারি-তে আমরা বাংলা পাঠ্য হিসেবে “আমার বই” পড়তাম, সেই বইয়ে হাশেম খানের আঁকা বর্ষাঋতুর ছবির  সাথে আমাদের ছেলেবেলার ‘বাস্তব’ বর্ষার অনেক মিল ছিল।  এখন জলবায়ু পরিবর্তনের এইযুগে, জুন মাসের শেষ সপ্তাহ এলেই আকাশ ভেঙ্গে বৃষ্টি নামে না।

বর্ষা কালে বিকালে বৃষ্টি হোক বা না হোক, স্কুলের মাঠের কাদায় দাপাদাপি, প্যাচ প্যাঁচে কাদায় ফুটবল খেলা,  পুকুরে ডুবে থাকা, জামায় লাল মাটির দাগ লাগানো ছিল আমাদের স্বাভাবিক খেলার রুটিনের বাইরে বাধাহীন আনন্দের উৎস। ভাবতে ভাল লাগে, আমার বাবা-মা এই কাদা আর বৃষ্টির উৎসবে কখনো বাধা দেননি। ভিজে ঠান্ডা না লাগানো পর্যন্ত আমার গালমন্দ শুনতে হতো না। আমি ছাতা মাথায় দেওয়ার ব্যাপারে আনাড়ী বা বেখেয়াল ছিলাম, কারন ছাতাটা হারিয়ে যেত, নয়তো স্কুল ব্যাগে পরে থাকতো। আমার সহপাঠি অথবা এলাকার সমবয়েসিদের মাঝে হাতে গোনা দু-এক জন ছাড়া রেইন কোটের ব্যবহার আমরা করতাম না। বর্ষায় ভেজা আমাদের জন্য নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা ছিল শেষ বিকালের রংধনু আমার চোখে আনেক বার ধরা দিয়েছে।  সম্পুর্ন দিগন্তজোড়া রঙধনু আমি অনেকবার দেখেছি।



বর্তমানে আমি ঢাকার এক আবাসন প্রকল্পে থাকি যেথায় আমার ফ্ল্যাটের চারপাশে অনেক বাড়ী। আশে আশে পাশে বড় কোন খোলা মাঠ বা প্রান্তর নেই। আমার বাসার সামনে রাস্তা পেরুলে স্কুল।  প্রতিদিন সকালে ছোট বাচ্চাদের ঘুম জড়ানো কন্ঠে গাওয়া জাতীয় সঙ্গীত আর ক্লাস শুরুর ঘন্টা শব্দে আমার তন্দ্রা ভাঙ্গে। সপ্তাহের শনিবার আমার অফিস নেই। এইদিনে বারান্দা থেকে, স্কুলে টিফিন পিরিয়ডের সময় স্কুলের ছোট ঘাসহীন মাঠে বাচ্চাদের ছুটাছুটি আগ্রহ নিয়ে দেখি। ঐ মাঠটা আদতে আমার জন্য ছোট, কিন্তু ঐ বাচ্চাদের জন্য অনেক কিছু, এদের কাছে এটাই অনেক বড়।

এই প্রাইমারি পড়ুয়া শিশুদের কাছে স্কুলের মাঠের বাইরে অন্য কোন মাঠ বলতে বোঝায়, দুই/তিন বাড়ীর মাঝে পরে থাকা ফাকা প্লট। এই ফাকা প্লটগুলি অনেক কৃত্রিম, এখানে অন্য প্লটের বাড়ী তৈরীর সরঞ্জাম থাকে, সাথে থাকে অনেক স্ক্র্যাপ । বর্ষাকালে, এই তিন দেয়ালের মাঝে আটকে পরা জায়গায় দাপাদাপি করার মতো পানি জমে না। ঘনবসতি আর প্রতিযোগিতার এই শহরে অনেক শিশুর বিকাল বেলা কেটে যায় গলিতে বা বাসার ছাদে দৌড়াদৌড়ি করে, টেলিভিশনে Ben Tenবা Pokémon দেখে, নয়তো কোচিং সেন্টারে  রাফ খাতায় কাটা কুটি করে। আমাদের শিশুরা শৈশবে যান্ত্রিকতায় অভ্যস্থ হচ্ছে। বৃষ্টিতে ভিজে আনন্দ করার ইচ্ছা নিশ্চই তাদের মনে জাগে আমি জানি, আমাদের বাচ্চাদের DNA তে ‘বৃষ্টি আর বর্ষাকালের সাথে সখ্যতা’-দুটোই সুপ্ত রয়েছে, সুযোগ বা পরিবেশ পেলে বৃষ্টি আর বর্ষার আনন্দ তাদেরও স্পর্শ করে।

আমাদের দেশে, সরকারী ঠিকাদারদের বাজে অভ্যাস আছে- রাস্তা মেরামত, সুয়ারেজ লাইন বসানো থেকে শুরু করে। যাবতীয় খোড়াখোড়ি বৃষ্টির মৌসুম এলে শুরু করেন ভালো বা মন্দ- রাস্তা যেমনি হোক উন্নয়নের নামে রাস্তার উপর বার্ষিক অপারেশন শুরু হয়ে যায়। খানা-খন্দ ভর্তি রাস্তা দিয়ে যান-বাহন চালানো অথবা হেটে যাওয়াও বেশ বিড়ম্বনা। অনেক দিন পর এরকম বেশ বড় একটা গর্তের পানিতে বেশ কিছু স্কুল ফেরত বাচ্চাদের খেলতে দেখলাম। এই প্রথম আমি রাস্তা কাটা কাটি করা লোকদের গালি দিলাম না।



আমরা আমাদের শহুরে শিশুদের  জন্য খোলা প্রান্তর বা মাঠের সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছি, আমার শৈশবের সে পরিবেশ আমি বা আমরা তাদের জন্য রেখে যেতে পারছিনা; কিন্তু বর্ষাকাল সময় করে প্রতি বছর আসে, তাই বর্ষা মৌসুমের এই পরিবেশ নিয়ে আমাদের আয়োজন থেমে থাকে না। বিকল্প উপায়ে হলেও সংকীর্ন পরিবেশে বেড়ে ওঠা শিশুরা বর্ষা কালের আবেগ ধারন করে। মাঠ , ধানক্ষেত বা পুকুর হয়তো আশে পাশে নেই, তাই রাস্তার বড় কাদাপানি ভরা গর্তই বৃষ্টিতে ভেজার সাথে  দাপাদাপি করে আনন্দ করার জন্য সবচেয়ে ভাল স্থান। আহ শৈশবের প্রিয় বর্ষা, প্রিয় বৃষ্টি।

২৬.০৮.২০১৩

Sunday, November 17, 2013

Short Review: The Wolverine 2013

Short Review: The Wolverine 2013


This movie may not impress many X-Men movie fans because there were just two notable mutants other than Wolverine-Yukio and Viper/Dr. Green. Here, Yukio’s mutant talent is rather covered by here extreme martial art performance. The Second reason for putting a low impression on viewers is the Japan connection of Wolverine. Those who only see the movies of X-Men series but not read the original comic series tend to believe that’s mutants must be billed from West[how ridiculous].

Theatrical poster 
From My point of view, I have read and see some cartoon series of Wolverine story based in Japan, may be this is the only reason for me to expect to see how Wolverine’s Japan adventures would be pictured in Cinema. Those who never read X-Men comics rarely know that before Professor X recruited Logan as X-Man, Wolverine had a notable events and adventures in Japan, alone as a key character.
________________________________________________________
Directed by    : James Mangold
Starring          : Hugh Jackman as Wolverine/Logan
                       Tao Okamoto as Mariko Yashida
                       Rila Fukushima as Yukio
                       Svetlana Khodchenkova as Viper/ Dr. Gree
                       Will Yun Lee as Kenuichio Harada
                       Haruhiko Yamanouchi as Yashida/Silver Samurai
                       Famke Janssen as Jean Grey
Running time:   126 Minutes.
________________________________________________________

Marvel Studio's Coverpage for Facebook
For the first time Wolverine is experiencing that his healing power is not working, Viper intoxicated him, which is the key factor of the story. Yashida has focused on Logan’s super healing power to live for some more days. Constant tormenting by hallucinations of Jean Grey, makes me bore sometimes. I like the twist of selecting villain. I could not guess, Yashida revealing as the mastermind villain in the mask of Silver Samurai at Climax. Cameo appearance of Professor X and Megneto in the mid credit scene is a surprise for me. Good to know that they foresee and give hint about “Days of Future Past”.

I am a fan of X-Men Characters; thus, I expect some new mutants who are not showed in past X-Men Series. More new mutants could exhilarate the story also bring some twisted moments for viewers. Hugh Jackman starred Logan’s Character brilliantly as he did in past movies.

Story runs in a good pace, to keep the story a move, script writers does not bring out the marriage between Logan and Marigo Yashida, as we see in comic.


Though this movie does not use “X-Men” in title, and said to be a separate movie out of X-Men Franchise, to me- this movie is filling the gap between “X-Men: The Last Stand”  and “X-Men: Days of  Future Past”.