বুধবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১৬

একজন মাহফুজ আনাম, ভূল স্বীকার আর সেতু


ডেইলী স্টার পত্রিকার সম্পাদক মাহফুজ আনাম বাংলাদেশের প্রভাবশালী সাংবাদিকদের একজন। এই কথাটা সম্প্রতি এক টেলিভিশন চ্যানেলে নিজের ভূল স্বীকার করার আগপর্যন্ত ঠিক ছিল।  ভূল স্বীকার করার পর বাধলো যত বিপত্তি। তিনি তার সাংবাদিক জীবনের যে ভূলটি স্বীকার করেছেন তা অনেক দিন রাজনৈতিক ডামাডলে মাটি চাপা পরে ছিল। তার স্বীকারোক্তির কারণে তা আবার মাটি ফুঁড়ে বের হয়ে এসেছে।


মাহফুজ আনাম শুদ্ধ সাংবাদিকতার চর্চা করেন না, তিনি একদম ১০০% খাটি সাংবাদিক নন। সব সময় খাটি খবর পরিবেশন করেন- তাও জোড় গলায় বলতে পারেননা।তার পত্রিকায় খুব ভাল নৈতিকতার চর্চা হয় না। এমন অনেক "না" দিয়ে মাহফুজ আনামের সাংবাদিকতাকে সংজ্ঞায়িত বা বিশেষণে পরিপূর্ণ করে দেয়া যাবে। 
২০০৭-২০০৮ এর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তার পত্রিকা বাংলাদেশের রাজনীতিকে প্রবাভিত করার চেষ্ঠা করেছে। তিনি মাইনাস টু ফরমুলা, নতুন রাজনৈতিক দল তৈরী নিয়ে একের পর এক কলাম তার ইংরেজী দৈনিকে প্রকাশ করেছেন। সেই সময় তার দেখাদেখি অনেক পত্রিকাতেই এই রাজনৈতিক প্রপাগান্ডা নিয়ে লেখা ছাপানো হয়েছে। বেসামরিক তত্ত্বাবধায়ক  সরকারের আড়ালে আর্মি গোয়েন্দা সংস্থার দেশকে নিয়ন্ত্রনের কলকাঠি হিসেবে ডিজিএফআই  এর মদদে মাহফুজ আনাম হঠাৎ করে এত সাহসী হয়ে উঠেছিলেন। তবে তিনি একা ছিলেন না, প্রথম আলোর মত প্রপাগান্ডা চালানো পত্রিকাও ডেইলি স্টারের সাথে সেনাবাহিনীর গয়েন্দা সংস্থার মুখপাত্রের মত কাজ করেছে। 

মাহফুজ আনাম এতদিন পর ভূল স্বীকার করেছেন কেন তা নিয়ে আমার বোধগম্য নয়। তিনি একা ভূল করেননি , সেই সময় অনেক সাংবাদিক এই ভূল করেছেন। এতদিন পরে এইরকম ভূল মেনে নেয়ার জন্য রাজনৈাতিক দল, প্রধানমন্ত্রী সবার ক্ষোভের কারণ হয়েছেন তিনি। তার নামে  এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় ২০ এর অধিক মানহানীর মামলায় করা হয়েছে। যতদুর মনে পরে , এই সকল মামলায় মাহফুজ সাহেবের পরাজয় হলে ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা দিতে হবে । 

নিজেস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণে বাংলাদেশের ব্যয় প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকা। মাহফুজ আনামের বিরূদ্ধে করা মামলা থেকে বাংলাদেশ অন্তত দুইটা বুড়িগঙ্গা বা কর্ণফুলি সেতু করে ফেলতে পারবে। এ কথাটা টানলাম, এই সাংবাদিককে এই মুহূর্তে কি পরিমান হেনস্থা করা হবে তা বোঝাতে। 

এবার আসি, আসল কথায়। সেই সময় মাহফুজ আনাম একা দোষ করেননি। অনেক পত্রিকার সম্পাদক একই দোষে দুষ্ট।তাদের ভার মাহফুজ আনাম একা বইবেন কেন ? তাদেরকেও দোষ স্বীকার করার জন্য সুযোগ দেয়া উচিত(!)
রাজনৈতিক নেতা কর্মীরা, এমনকি আমাদের প্রধানমন্ত্রীও মাহফুজ আনামের দিকে আঙ্গুল তুলেছেন। কিন্তু যে ডিজিএফআই এর প্ররোচনায় মাহফুজ আনামরা সেই সময় প্রপাগান্ডা চালিয়েছেন  তাদের দিকে কেউ আঙ্গুল নির্দেশ করছেন না। ডি জি এফ আই এর তথ্য যাচাই করা মাহফুজ আনাম বা সাংবাদিকদের কাজ নয়। বরং সঠিক তথ্য বের করে আনাই ডি জি এফ আই দের কাজ হয়ার কথা। কিন্তু তা হয়নি। বলা বাহুল্য ডি জি এফ আই-কে এই  প্রসঙ্গে তাদের অবস্থান কেন এমন বিতর্কিত ছিল সেটা নিয়ে কেউ আঙ্গুল তুলছেন না, বরং নিরবতা পালন করবেন।তাদেরকে মাহফুজ আনাম এর আগে বিচারের সম্মুখে আনা নিয়ে অনেকেই বিমুখ, তাই মাহফুজ আনামকে একাই  ডিজিএফআই এর দোষেরও ভার বহন করতে হচ্ছে।দোষ যখন স্বীকার করেছেন, দায়ও আপনিও নিবেন, জনাব।  দেখা যাক, মানহানি বা ক্ষতি পুরণের টাকার অংক পদ্মা সেতুর অর্থায়নের ফিগারকেও ছাড়িয়ে যায় কিনা......!



সহায়ক সুত্র; :
http://bangla.bdnews24.com/bangladesh/article1108859.bdnews
http://bangla.bdnews24.com/bangladesh/article1099667.bdnews
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন