মঙ্গলবার, ১৩ জুলাই, ২০১০

বৃত্তের বাইরে

একটি বিতর্কিত দলের বেশ কয়েক জন শীর্ষনেতা বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনীতি আর খবরের কাগজ গুলোর নিয়মিত শিরোনাম| পাঠকরা নিশ্চই বুঝতে পারছেন কাদের কথা বলা হচ্ছে| নাহ ! রাখ-ঢাক করে লাভ নেই, খোলাখুলিই বলি, এই বিশিষ্ট জনেরা বাংলাদেশের ইসলাম ভিত্তিক সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামাতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃত্ | 
এই পোস্টটাকে আরো সামনে এগোনোর আগে বলে রাখি ফেসবুকে আমার পলিটিকাল ভিউ তে 'লিবারেল' দেওয়া আছে | তাহলে এই একটি ধর্ম ভিত্তিক পুজিবাদী দল কে নিয়ে লেখার দরকার কি?তাও এমন একটা দল যেটা বিতর্কিত এবং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধচারী দল |
সামনে এগোনো যাক- 
বাংলাদেশের এর মতো একটি দুর্নীতিপরায়ন দেশের রাজনৈতিক দলগুলো যতটানা, দেশপ্রেমিক  তার চেয়ে বেশি ব্যবসায়ী মনোভাবের | এই দলগুলো (ডানপন্থী, বামপন্থী, ধর্ম ভিত্তিক, সবই) সবাই নিজেদের কতগুলো 'আদর্শ' বিজ্ঞাপন, বিপণন করে বেড়াচ্ছেন| কেউ নিজেকে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি, কেউবা  সংস্কার পন্থী, কেউ সমাজ তন্ত্রের ধজ্জ্বাধারী, আর কেউ কেউ আছেন ধর্মের আড়ালে লুকিয়ে|  এই বিজ্ঞাপন দেখে প্রলুব্ধ হয়ে আমরা সাধারণ জনগণ নানা ভাবে দ্বিধা-বিভক্ত|  কোনো এক আড্ডায় দুইজন আম জনতার কথোপকথনের উধৃতি দেওয়ার প্রয়োজন মনে করছি|
..................
স্হান : ফার্ম গেট কাল: পহেলা জুলাই, ২০১০
প্রথম ব্যক্তি : এই সরকারের উচিত হয় নাই এদের গ্রেফতার করা.. কি বলেন
দ্বিতীয় ব্যক্তি: ঠিক কাজই করসে, আজ না হয় কাল এরেস্ট হই তই, বিচার হওয়া উচিত.
প্রথম ব্যক্তি : ওরা কি অপরাধ করসে যে বিচার করণ লাগবো
দ্বিতীয় ব্যক্তি: (ক্ষানিকটা খেপে গিয়ে) বিচি কাইটা দেওয়া উচিত
প্রথম ব্যক্তি : (সামান্য রাগান্বিত)আস্তে! আসে পাশে মহিলা আছে.  
দ্বিতীয় ব্যক্তি: গোলাম আজম আমার দাদার দোস্তরে গাছে উল্টা করে ঝুলাইয়া মাথায় আগুন লাগায়া দিসে, টার আগে আমার দাদা বাড়িতে কাফনের কাপড় পাঠায়া ভারতীয় দালাল দের সাথে যোগ দিলে মাইরা ফেলবো - এই লিখা চিঠি দিসে (এ লোকের বাড়ি ব্রাহ্মানবাড়িয়ায়) 
প্রথম ব্যক্তি: মানুষ কত রকম গল্প বানাইসে আজম সাহেবরে নিয়া, যুদ্ধের সময় গোলাম আজম বাংলাদেশেই ছিলো না, আর আপনি বলেন মাথায় আগুন দিসে... আমার চেয়ে গোলাম আজম সম্পর্কে কেউ ভালো জানেনা, তিনি ভাষা আন্দোলনের সময় নিজে স্মারকলিপি পেশ করেছেন, অথচ এই কথাটা কেউ বলেনা
দ্বিতীয় ব্যক্তি: আপনিতো গোলাম আজম সম্পর্কে অনেক জানেন, আচ্ছা বঙবন্ধু  সম্পর্কে কতটুকু জানেন?
প্রথম ব্যক্তি : (সামান্য হচকচিয়ে গেলেন,একটু অপ্রস্তুত ভঙ্গিতে) বঙ্গবন্ধুর ছোট ভাই আবু নাসের- যার নামে এখন খুলনা(বিভাগীয়)স্টেডিয়াম, উনার বাম পা ছোট ছিলো, উনি চোরাচালানি করতো, পুলিশ ধরলে বাম পা বের কৈরা দেখাইতো, পুলিশ ছাইরা দিত |
দ্বিতীয় ব্যক্তি: আবার আপনার কোথায় আসি , মানুষ কত রকম গল্প বানাইসে... আপনি নিজেও তো বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে ভালো জানেন না |
.....................................
বলা বাহুল্য সেদিনের কথোপকথনের আগে গোলাম আজম, বঙ্গবন্ধু আর শেখ আবু নাসের সম্পর্কে আমি নিজেও ভালো জানতাম না| এখন গোলাম আজম ও বঙ্গবন্দু সম্পর্কে মোটামুটি জানি. এই পোস্টের শেষে আমি এই দুই ব্যক্তিত্ব সম্পর্কিত লিঙ্ক দেবো | আবু নাসের সম্পর্কে তেমন কোনো তথ্য পাই নি |


দুই ব্যক্তির কথা শুনে আমর মনে হয়েছে আমরা আম সাধারণ জনেরা কি বিরূপ পরিস্থিতিতে আছি | বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল গুলো খুবই ভাগ্যবান, যে এই দল গুলো বাংলাদেশের জনগনের মাথা খুব সহজেই 'কিনে' নিতে পারছে| আমরা জনসাধারণ না বুঝে তাদের অন্ধের মতো সমর্থন করছি, কেউ ঘুনাক্ষরেও টের পাছিনা , এই দল গুলো পরিকল্পিত উপায়ে আমাদের উপর mind control theory প্রয়োগ করে যাচ্ছে  , আর এই থিউরির সফল প্রয়োগ করেছে জামাতে ইসলামী| এই দলটি তাদের সমর্থক কর্মীদের খুবই স্বল্প তথ্য  জানতে দিচ্ছে(জামাতের কর্মীরা নির্দিষ্ট কিচ্ছু বইয়ের বাইরে অন্য বই পড়েন না বা পড়তে পারেন না)| কর্মীরা জানতে পারছেন না যে তাদের জানার অধিকার খর্ব করা হচ্ছে|ফলশ্রুতিতে, আমরা কারো সম্পর্কে ভালো না জেনে তার সমালোচনা করি , অকারণে বিভিন্ন মতে ভাগ হয়ে যাই|


এই দল গুলো প্রতিবছর বিভিন্ন পশ্চিমা দাতা সংস্থার কাছ থেকে তাদের কর্মী সমর্থকদের 'লিস্টি' দেখিয়ে প্রচুর ডলার আর রিয়াল বাংলাদেশে নিয়ে আসে, তার সিকি ভাগও তারা নেতা কর্মীদের পেছনে ঢালেন না , বরং নিজেরাই ভাগ করে নেন, ছেলেমেয়েদের আর পরিবার পরিজনকে নিয়ে করেন উন্নত জীবন যাপন | 


বৃত্তের ভেতর থেকে শুধু পরিধি পর্যন্ত দেখা যায়, তাই বের হয়ে আসি বৃত্তের বাইরে; আরেকবার ভাবি, সমর্থন করার আগে সমালোচনা করি, নিজের মাথা বিনা পয়সায় বিক্রির আগে নিজের জানার অধিকার সম্পর্কে সচেতন হই| লেখা শেষ করছি সম্প্রতি নাম পরিবর্তন করা একটা মোবাইল কোম্পানির স্লোগান দিয়ে - "জ্বলে উঠুন আপন শক্তিতে"|
----------
শেখ মজিবর রহমানগোলাম আজম | গোলাম আজম ২ 
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন