উড়াল তরল লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
উড়াল তরল লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১০

উড়াল যানের তরল রসদ ৪

এই গ্যাস স্টেশন তার কোনো প্রচলিত নাম আমি পাইনি , যদিও পঞ্চাশের দশকে "এয়ারগ্যাস" নামে জনপ্রিয় ছিল | বর্তমানে এই ফিলিং স্টেশন টা কুইক স্টপ মিনি মার্টের অংশ | এখানে যে বিমানটা ব্যবহার করা হয়েছে , তার প্রচলিত নাম 'বিটি - ১৩ ভলটি' | 



বিমান মালিক বিমাটি পঞ্চাশের দশকে এই মিনি মার্ট মালিকের কাছে বিক্রি করে দেন, কারণ এটা আর উড়ানোর জন্য উপযুক্ত ছিলনা | বুদ্ধিমান ক্রেতা জানতেন কিভাবে এই অচল যন্ত্র ব্যবহার করতে হবে, ঝুলিয়ে দিলেন পেট্রল পাম্প এইলেন্দের উপর, আর সব বিমান গুলোর মতই এটাও দৃষ্টি আকর্ষি | এই মার্টের পাশ দিয়ে কেলিফোর্নিয়া হাইওয়ে ৪১ চলে গেছে| যারা এই হাই ওয়ে ব্যবহার করে পিস্মো সৈকতে যান, তাদের বেশির ভাগ লোকেরই অভিজ্ঞতা হয়েছে , অন্তত একবার এই মিনি মার্টয়ে বসে কফি পান করার, সবাই এই কফি এই দোকানে ঢু মেরেছেন, এই বিমানটিকে উল্টো অবস্থায় ঝুলতে দেখে... বাকি গল্প এর বাদ বাকি 'উড়াল তরল'এর মতই|
...........................................
ছবি মেথিউ ই.কোহেন এর সৌজন্যে ফ্লিকার থেকে নেওয়া 

শনিবার, ১৪ আগস্ট, ২০১০

উড়াল যানের তরল রসদ ৩

এই ফিলিং স্টেশন সম্পর্কে যদি না লেখা হয় , তাহলে 'উড়াল..' সিরিজ অপূর্ণ থেকে যায়; কারণ এটাই এ ধরনের প্রথম স্টেশন | এলমার ও হেনরী নিকেল(Nickle) ১৯৩০ সালে প্রথম এমন একটি পেট্রল পাম্পের গোড়া পত্তন করেন, যা পরবর্তিতে জাতীয় ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে গৃহীত হয়েছে| 

পাওয়েল এয়ারপ্লেন স্টেশন

১৯৩০ সালে যখন এই গ্যাস স্টেশনের যাত্রা শুরু হয়, তখন এটা শুধুই একটা পেট্রল পাম্প ছিল, Powell Gas Station(যুক্তরাষ্ট্রে ফিলিং স্টেশন গুলোকে প্রচলিতভাবে গ্যাস স্টেশন বলে) নামে পরিচিতি ভালই ছিল, ১৯৬০ সালের পর এই পেট্রল পাম্পের সাথে সার্ভিসিং যোগ হয়| আমার এই 'উড়াল তরল' সিরিজের সব কয়টি চলতি পথের আকর্ষণ এর উদ্দেশ্য একটাই - চলমান যানবাহন আর লোকজনের দৃষ্টি কেড়ে নেওয়া, নিকেল ভাইরা ব্যপারটা প্রথমে ধরতে পেরে ছিলেন| তবে বাদ বাকি বিমান গুলোর মতো এটা কোনো আসল বিমান ছিলনা, পাম্পের অফিস ঘরটি ছিল উড়োজাহাজের মতো দেখতে(ছবিতে দেখুন)| উড়োজাহাজের মতো দেখতে ঘর বা অফিস বানানোর পেছনে এলমার নিকেল বেশি উত্সাহী ছিলেন| 



এই জায়গা ও স্থাপনা  সংরক্ষণের জন্য স্থানীয়দের সংগঠণও আছে| বর্তমানে পেট্রল পাম্পটা আর সচল নয়, গাড়ী পার্কিং লট হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে| ২০০৪ সালে(১৮ই মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের এই স্হানকে 'ন্যাশনাল রেজিস্টার অব হিস্টোরিক প্লেসেস' এর অন্তর্ভুক্ত করে নেয়|  
......................................

বৃহস্পতিবার, ৫ আগস্ট, ২০১০

উড়াল যানের তরল রসদ ২

পেট্রল স্টেসনের উপর বিশাল কনক্রিটের উড়োজাহাজ এই ধ্যান ধারণা , বাংলাদেশের জন্য নতুন হতে পারে, কিন্তু পশ্চিমা বিশ্বে এমন চমকদার  ভাবনা নতুন নয় | হেমায়েতপুরের ওই ফিলিং স্টেশন দেখে , বেশ কয়েকবার আমার মনে হয়েছে , কোনো এক ইংরেজি চলচিত্রে , এমনি এক পেট্রল পাম্প আগুনে পুড়িয়ে ফেলার দৃশ্য আছে| আমার মন্থর মেমরি ওই ফিল্মের নাম মনে করতে পারেনি| তবে সার্চ ইঞ্জিনে ঠিকই খুঁজে বের করেছি, এমনি একই রকম আরো একটা পেট্রল স্টেশনের সন্ধান পাই, আমেরিকার অরেগন অঙ্গরাজ্যের মিলওয়াকিতে:

 বোম্বার গ্যাস স্টেশন

মিলওয়াকিতে এই পাম্প স্হাপিত হয় ১৯৪৭ সালে, সেই সময় থেকে, এই স্থানটা  জনপ্রিয় ল্যান্ডমার্কের মর্যাদা লাভ করেছে| পাম্পের মালিক আর্থার উইলিয়াম লাসি(Lacey)কে, আরকানসাস থেকে এই B-17 বোমারু বিমানটিকে মিলওয়াকিতে আনতে অনেক ঝক্কি পোহাতে হয়েছে, কোনো ফিল্ম মেকার চাইলে এই গল্প দিয়ে অনায়াসে ছায়াছবি বানাতে পারবেন|
গল্পের শুরু  দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অল্প পরে| এই উদ্ভট গ্যাস স্টেশনের আইডিয়া নিয়ে আর্থার আরকানসাসে পৌঁছান বোমারু বিমান কেনার জন্য, উদ্দেশ্য বোমারু বিমানকে আইকন হিসেবে ব্যবহার করে, গ্যাস(এই খানে পড়তে হবে- পেট্রল) ব্যবসা করবেন| আরকানসাসে তখন সদ্য শেষ হওয়া যুদ্ধের বেচে যাওয়া যন্ত্রের খুচরা বাজার বসানো হয়েছে| এই বিমানটি কিনতে তার ১৫০০০ ডলার গুনতে হয়েছে| বিমান কেনার সময় ঠিক হয়নি ঠিক কোন বিমানটা তিনি নিয়ে যাবেন, মজার ব্যপার এই কথা সেল ইন চার্জকে জিজ্ঞেস করায়, তিনি যে কোনো একটা বিমান উড়িয়ে নেওয়ার অনুমতি পান, কারণ মাইলের পর মাইল পরিত্যক্ত বিমান পরে ছিল সেখানে| 


আর্থার বিমান বি-১৭ বিমান কে বাছাই করার পর দেখলেন , এটা একটা ৪ ইঞ্জিনের বিমান, যা চালানোর অভিজ্ঞতা তার ছিলনা, তাছাড়া এই বিমান একা তার পক্ষে অবতরণ করা কষ্ট সাধ্য ছিল|অতএব, একজন কো-পাইলট দরকার ছিল , কিন্তু তখন কাউকে পাওয়া যায়নি| আবার বি - ১৭ অবতরণের জন্য সব সময় এই বিমানে দুই জন পাইলট থাকা চাই, অগ্যতা আর্থার কো-পাইলটের জায়গায় একটা ডামি বসিয়ে পাম স্প্রিংএর উদ্দ্যেশে, পরে মুখ ঘুরিয়ে ওরেগনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে ছিলেন| তুষার ঝড়ের মধ্যে দিয়ে অরেগন আসার পর, হাইওয়ে কর্তৃপক্ষ কখনই এই বিমান কে রাস্তায় নামানোর অনুমতি দেয়নি| অবশেষে মাঝরাতে মূল রাস্তা ধরে বর্তমান জায়গায় এই বিমানটিকে আর্থার নিয়ে আসেন, এর জন্য তাকে ১০ ডলার জরিমানাও দিতে হয়েছে. 
বর্তমানে, পেট্রল পাম্পটা এর সচল নেই, 'লেডী লাসি'(বিমানটার ডাকনাম, আর্থারের বৃটিশ স্ত্রীর নাম অনুসারে) এখনো  পাশের রেস্টুরেন্টের বিজ্ঞাপন হিসেবে   ব্যবহার হচ্ছে.আর্থার ২০০১ সালে গত হয়েছেন, কিন্তু আর্থারের কিংবদন্তীর সাক্ষী বোমারু বিমানটা এখনো সবাইকে তার কথা মনে করিয়ে দেয়|
...................

বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন, ২০১০

উড়ালযানের তরল রসদ






ঢাকার ভেতরে অথবা বাইরে হাইওয়ের পাশে ইদানিং নতুন নতুন অনেক গ্যাস রিফুয়েলিং স্টেশন হচ্ছে.জ্বালানি হিসেবে রুপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস এর জনপ্রিয়তা বেড়েছে, পাল্লা দিয়ে,  ব্যাঙয়ের ছাতার মতো গ্যাস স্টেসন এর সংখ্যাও বেড়েছে, (পরিসংখানে যাচ্ছিনা); একই সাথে ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতাও বেড়েছ|
এই স্টেসন গুলোর মালিকরা এই অঘোষিত প্রতিযোগিতায় কেও কারো থেকে পিছিয়ে নেই| গাড়ীর চালকদের আকৃস্ট করার জন্য নিচ্ছেন নানা রকমের কৌশল- কেউ পাম্পের অফিসঘরের উপর ঝুলিয়ে দিচ্ছেন বড় রঙ্গিন ঝান্ডা, যাতে হাইওয়েতে অনেক দূর থেকে চালকদের দৃষ্ঠি আকর্ষণ করা যায়| কেউবা রাস্তায় সাইনবোর্ড অথবা দুরত্বপিলার বসাচ্ছেন- “...ফিলিং স্টেসন, ১ কিলোমিটার সামনে”, অনেক ফিলিং স্টেসনের সামনে পতাকা হাতে তাদের লোক দাড়িয়ে থাকতে দেখা যায়, যার কাজ হচ্ছে ট্রাফিক পুলিশের মত গাড়ীকে নিজের স্টেসনে নিয়ে আসা। পাশাপাশি পাম্পগুলোর প্রতিযোগিতা আরো সূক্ষ,গ্রাহকদের ধরে রাখতে তারা তাদের পাম্পের গুণগান লিখে সাইন বোর্ড টাঙ্গান,পাম্পের মেশিনে অথবা টাকার রশিদের নিচে লিখে দেন, সঠিক পরিমাপে তেল অথবা গ্যাস দেওয়া হয়, প্রভৃতি|
দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য কত কিছুই না করা হয়.তবে বিচিত্র উপায়ে দৃষ্টি আকর্ষনের জন্য কারো কারো আইডিয়া চমকপ্রদ, যেমন, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের হেমায়েতপুর মোড়ের উড়োজাহাজ-ওয়ালা স্টেসনটি(নিচের ছবিতে দেখুন)




বলে রাখা ভালো, এটা কোনো আসল বিমান বা উড়োজাহাজ নয়, কিংবা আসল যন্ত্রের খোলসও নয়, সম্পূর্ণ ইট, পাথর, লোহা এর সিমেন্টের ঢালাই করা দেশী রাজমিস্ত্রীদের করা 'শিল্প'কর্ম|ঢাকা থেকে সাভার যাওয়ার পথে, হেমায়েতপুর এলেই, এই বিশাল ঢালাই-যজ্ঞ প্রায় প্রতিদিনই নতুন করে আমার চোখ রাস্তার বাম পাশে টেনে নিত, বলা বাহুল্য এখনো আমি ওই পথে যাওয়ার সময় , ওই স্থানে রাস্তার বাম পাশে তাকাই. এই স্টেসনটা এর আসে পাশের পাম্পগুলো থেকে বয়সে 'নবীন'|সেই পাম্প্ গুলোর বাজার আর সুনাম-দুটোকে একসাথে হাত করতেই কি পাম্প মালিকের এই বিশাল আয়োজন কিনা- কখনো খোজ নিয়ে দেখা হয়নি, কিন্তু উদ্যোগতা সবার দৃষ্ঠি আকর্ষণে সফল হয়েছেন, কারণ অনুসন্ধিত্সু চোখ ব্যতিক্রম খুজবেই|
...................................
এই লেখাটি Sight by Walk ও গুগলআর্থ কমুনিটি ফোরামে প্রকাশিত
Fuel From Plane!পোস্টের বাংলা প্রতিরূপ