অণুগল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অণুগল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ১ অক্টোবর, ২০১১

কালো কোট ও মিথ্যুক-Liar Lawyer

কালো কোট ও মিথ্যুক
১.
তোরাব আলী, ঋনালি ব্যাঙ্কের সদ্য নিয়োগ পাওয়া, ঋণ দেওয়ার কেরানি | তোরাব আলীর এটা প্রথম কেরানির চাকুরী | চাকুরী পেয়ে তোরাব আলীর মনে হয়, তার ধর থেকে বিশাল প্রস্তরটি নিচে পরে গেছে | তারপরও মনে মনে তোরাব আলীর প্রায় আক্ষেপ হয়, 'আহারে! আমি যদি কালো কোট অথবা সাদা এপ্রন পরার পেশায় যাইতে পারিতাম , কতইনা বেশি অর্থ উপার্জন করিতাম, সম্মান পাইতাম'| 

২.
শ্যামলা-সিধা তোরাব আলীর ক্ষেত্র বিশেষে কয়েকবার হাসপাতালে সময় কাটানোর অভিজ্ঞতা হয়েছে| ভাগ্যবান তোরাব,ডাক্তারদের কাছে থেকে ভাল ব্যবহার পেয়ে সাদা আলখাল্লাধারীদের প্রতি মন বিগলিত হয়, একই সাথে পেশাগত ক্ষেত্রে সম্মান নিয়ে তার আক্ষেপ কিঞ্চিত বেড়ে যায়| তবে কোর্ট-কাচারিতে কোনো কারণ বশত যাওয়ার সৌভাগ্য হয়নি | এইবার একটা মওকা পাওয়া গেছে,ব্যাঙ্কের একটা কেস অর্থঋণ আদালত হয়ে হাইকোর্ট গড়িয়েছে |  তোরাবের জৈষ্ঠ কেরানি ইলিয়াস, তোরাবকে সঙ্গী হিসেবে হাইকোর্টে নিয়া যাবেন | মনে মনে তোরাব ভাবে, 'কতদিন আমি বাসে চড়িয়া, এই সাদা বাড়িটার সামনে দিয়া গমন করিয়াছি, এইবার এই বাড়ির ভেতরে যাইবার মওকা মিলিলো"|


সোমবার, ২১ মার্চ, ২০১১

টিভিতে আমার সাক্ষাৎকার - পাভেল রুমিয়ানৎসেভ

আমরা যা বলতে চাই আর যা শুনে থাকি তার মাঝে আকাশ পাতাল পার্থক্য হয়, যখন কেউ আমাদের কথা আর দেখার ভঙ্গিকে বিকৃত করে উপস্থাপন করে |ফলাফল: আমরা নিজেরা নিজেদের কথার উপর আস্থা হারাই , মনের মাঝে জন্ম নেয় অবিশ্বাসের| আত্মবিশ্বাসের ভিত হয় নড়বড়ে | মিডিয়া প্রপাগান্ডা যে কি নোংরা কর্ম তারই বহি প্রকাশ নিচের এই গল্পটি -

টিভিতে আমার সাক্ষাৎকার - পাভেল রুমিয়ানৎসেভ


হেঁটে যাচ্ছিলাম পথ ধরে। চমৎকার আবহাওয়া। বাসন্তিক। কোথাও যাওয়ার তাড়া নেই। প্রশান্তচিত্তে পাখিদের গান শুনছি। উপভোগের এমন মুহূর্ত বড়ই বিরল। সেই সময় হঠাৎ কানে এল প্রীতিকর নারীকণ্ঠ।
‘আপনার সঙ্গে একটু কথা বলতে পারি?’
ঘুরে তাকিয়ে দেখি, মাইক্রোফোন হাতে এক মেয়ে, আর জিনস পরা এক ছেলে, তার কাঁধে টিভি-ক্যামেরা। অদূরে এক গাড়ি দাঁড় করানো। সেখান থেকে তার চলে এসেছে এ পর্যন্ত। আমাদের শহরে টিভিকর্মী সচরাচর চোখে পড়ে না। আমার তাই কৌতূহল হলো। এগিয়ে গেলাম তাদের দিকে।
ছেলেটি টিভি-ক্যামেরা তাক করে ধরল মেয়েটির দিকে, আর মেয়েটি মাইক্রোফোনে বলতে শুরু করল, ‘আপনার পরিচয় দিন দয়া করে।’
সর্বনাশ! এরা দেখছি তাৎক্ষণিক সাক্ষাৎকার নিতে চাইছে! আমি নিজের পরিচয় জানালাম।
‘কোথায় কাজ করেন?’

রবিবার, ৯ জানুয়ারি, ২০১১

অলীক

শুভ্র কখন এই চৌরাস্তায় এসে দাড়িয়েছে , মনে করতে পারছে না | চারদিকে অনেক ব্যস্ত মানুষ আর যান বাহনের ভিড়, কোনো কিছুই শুভ্রর মনে প্রভাব ফেলছে না | আজ এই রাস্তার মোড়টা বেশি সংকীর্ণ আর সীমাবদ্ধ লাগছে | এই চৌরাস্তা হয়ে শুভ্র অহরহ যাতায়াত করে | এইখানে , এই মোড়ে এসে দাড়ানোর ব্যাপারটা অস্বাভাবিক নয়, তারপরও তার এই হঠাৎ আবির্ভাব শুভ্রর মনে খুব গাড়ও ছাপ ফেলেছে | শুভ্র আবারও মনে করার চেষ্ঠা করলো সে কিভাবে এই চৌরাস্তায় এলো, মনে করতে পারলো না | 

শুভ্রর হাতে একটা জলন্ত সিগারেট আছে | এই অবাক সময়ে ধোঁয়া দেখতে ভালো লাগছে না | সিগারেটটা ফেলে দিতেও ইচ্ছে করছেনা | সময় কাটাতে হবে | এই মুহুর্তে পরিচিত কাউকে পেলে ভালো হতো , এই ব্যাখ্যাহীন সময়টা ভালো ভালো কাটতো | এই মোড়ে আসার আগে কোথা থেকে সিগারেট কিনেছে, তাও যদি মনে করা যেত | এই মোড়ে আগমনের পূর্ব ঘটনার সাথে নিশ্চই সিগারেটের যোগসূত্র আছে ! মনে করা যাচ্ছে না | [সিগারেট + চৌরাস্তায় আগমন = ?!] লজিক কাজ করছে না | মাথায় তীক্ষ্ণ ব্যাথা অনুভব হচ্ছে |

বৃহস্পতিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১০

সিক লিভ

তাহের সাহেব তথা তাহের কবির , এই ব্যস্ত শহরেরই আর দশজন লোকের মতই খেটে খাওয়া মানুষ | একটা কোম্পানিতে মোটামুটি বেতনের চাকরিতে তার সময় ভালই কাটে, বারতি আয়ের জন্য শেয়ার ব্যবসাটা রপ্ত করেছেন | একা থাকেন একটা মেসবাড়িতে, এখনো সংসারী হননি, সংসারী হওয়ার ব্যাপারটা বাবা মার হাতে ছেড়ে দিয়ে নিজের মতো থাকেন | এই শহরে তার একটাই বিরক্তি - তার মেস থেকে অফিসপাড়া  মোটামুটি ভালই দুরে | বাসে যাতায়াত তার প্রথম পছন্দ , দু এক বার মোটরসাইকেল কেনার কথা মাথায় উকি দিলেও , আলসেমি করে এই ধান্দা বাদ দিয়েছেন | বন্ধুও খুব বেশি নেই , তাই রোজ আড্ডা না দিলেও তার দিন চলে যায়, ইদানিং ব্রোকার হাউজেও যেতে হয়না শেয়ার ট্রেডিং অফিসে বসেই করেন | এই ভাবে ভালই চলছিলো, বিপত্তি বাধলো গতকাল থেকে|
গতকাল রাত থেকে তাহেরের বাম পায়ের অবস্থা ভালোনা  | মনে মনে তিনি হাজারটা গালি দিছেন নিজেকে , কেনযে বাসে ওই মহিলাকে সিট অফার করলেন, হাই হিলের পারা যে এমন বিষফোড়ার মতো , তা এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন, পেইন কিলারটাকেও ভেজাল মনে হচ্ছে, ব্যথা সাড়ার নামই নিচ্ছেনা | মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলেন , আর কখনো মহিলাদের সিট ছেড়ে দেবেননা | হাই হিল পরে কেউ বসে ওঠে ?!