মতামত লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
মতামত লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

খাবার পানির রাজনীতি

আমাদের প্রতিবেশী দেশে একজন অবিসংবাদিত নেত্রী রয়েছেন। তিনি দীর্ঘদিন  গৃহবন্দী ছিলেন। সামরিক জান্তা তাকে দীর্ঘদিন অন্তরীণ করে রেখেছিলো। আং সান সুকির কথা বলছি।  এই রাজনৈতিক নেত্রীও একজন মহান নেতা আং সানের কন্যা। আং সানকে ধরা হয় আধুনিক বার্মার জাতির পিতা হিসেবে।  ২০১০ সালে ঘর থেকে বের হয়ার পুর্বে,  প্রায় ২১ বছরের বেশী সময় তিনি নিজ গৃহে বন্দি থেকেছেন। 

এবার নজর দেই আমাদের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষপটের দিকে। ৫ জানুয়ারী, ২০১৫তে সমাবেশ করতে না দেয়ায় দেশে টানা অবরোধ আর জ্বালাও পোড়াও চলছে। এক কালের প্রতাপশালী নেত্রী খালেদা জিয়া নিজ দলের গুলশান কার্যালয়ে নিজের দিনানিপাত করে যাচ্ছেন। তিনিও সু কির মতো বর্তমানে 'গৃহবন্দি' অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। তার দাবী প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে তার দলের কর্মীদের চেয়ে সাধারণ মানুষের নামে-সংখ্যায় হাসপাতালের বার্ন ইউনিট ভারী হচ্ছে। 

তিনি আং সান সু কির মতো ফোবস ম্যাগাজিনে ২০১৪ সালের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী নারীদের তালিকায় নাম তুলতে পারেননি। তাতে কি, তিনি বাংলাদেশের একটি সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থিত দলের কান্ডারি। এই সরকার তাকে কার্যত গৃহবন্দি করে রেখেছে। উড়ো খবরে জেনেছি[রেফারেন্স নেই] যে, তাকে সমাবেশ করতে দিলে বেনজীর ভুট্টোর মতো মেরে ফেলা হবে, তাই সরকার তাকে নিরাপত্তার নামে বন্দি করে রেখেছেন। 

ধরে নিলাম, তিনি নিজেকে ইচ্ছা করেই গৃহে অন্তরীণ রেখেছেন, নিজেকে নিরাপদে রেখেছেন। বার্মার সামরিক জান্তাদের সাথে আমাদের নির্বাচিত [!] সরকারের মিল খুজে পাচ্ছি। রাজনৈতিক স্বার্থে একজন রাজনৈতিক নেত্রীকে বন্দি রাখা হচ্ছে। কিন্তু বার্মার সামরিক জান্তাদের আমি আমার দেশের সবচেয়ে বেশী বয়েসি রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে গঠিত সরকার এর চেয়ে বেশী সভ্য মনে করছি। কারণ তার কখনো আং সান সু কির  রান্নাঘরে তালা ঝুলিয়ে দেয়নি। খাবারের উপর নিষেধাজ্ঞা আনেনি। তিনি তার মতই খেয়ে পরে বেঁচে ছিলেন। আমাদের সরকার নির্লজ্জের মতো এই কাজটি করেছেন। খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে খাবার প্রবেশে বাধা দিচ্ছে পুলিশ। খালেদা জিয়া এখন আর সংসদের অংশ নন। তাই তাকে বোধ করি সরকার আগের মতো ভয় করেনা। কিন্তু তাই বলে তাকে খাবার আর পানি না দিয়ে কষ্ট দেওয়া সরকারের ঠিক হয়নি। 

যুগান্তর ১২ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫
সরকার নিজেকে অনেক সহনশীল আর সভ্য দাবী করেনি, কিন্তু এহেন কাজ কোন সভ্য কাজ নয়। আমি এই ধরনের ছেচরামীর দেখে অবাক হইনি, কিন্তু এটা আশা করিনি। যাদের মাথা থেকে এই ধরনের আইডিয়া আসে, তারা অসুস্থ। বলতে দ্বিধা নেই, এই ধরনের অসুস্থ লোকদের নিয়ে বড় কিছু করা যায় না। ধীক্কার জানাই তাদের যারা খাবার আর পানি নিয়ে রাজনীতি করেন।  

বৃহস্পতিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

প্রসঙ্গঃ হ্যাকার

বাংলাদেশী হ্যাকাররা সীমান্তে বিএসএফ এর অমানবিক, বর্বরোচিত হামলা বন্ধের জন্য একের পর এক ইন্ডিয়ান সাইট হ্যাক করে যাচ্ছেন, এছাড়াও টিপাইমুখ ইস্যুতে জনসচেতনতা এই হ্যাকিং এর উদ্দ্যেশ্য  বলে হ্যাকাররা তাদের হ্যাক করা সাইট গুলিতে জানান দিচ্ছেন। পত্রিকার বিভিন্ন সুত্র আর বিডি রেড হ্যাট হ্যাকারদের ফেসবুক ফ্যান পেজ থেকে জানা যায়, হ্যাক হওয়া সাইটের সংখ্যা ২০০০০ চেয়ে বেশী[৪]। যদিও বেশীর ভাগই ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক কম্পানীর ওয়েব পেজ,পর্ণ সাইট; এদের মধ্যে বি এস এফ এর(bsf.nic.in) এর সাইটও রয়েছে ।[১]

এই সাইবার যুদ্ধ, রীতিমত সবার মাঝে আলোড়ন তুলেছে। আমাদের বেকুব সরকার যথারীতি এই ঘটনাতেও স্বাধীনতাবিরোধী ও ইসলামি সন্ত্রাসীদের গন্ধ পেয়েছেন। [২] একদল সুবিধাবাদী এই হ্যাকিংকে আন্তর্জাতিক রুপ দেওয়ার জন্য পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, রাশিয়া আর ইসরায়েলকেও জড়িয়ে গুজব রটিয়েছে। প্রসঙ্গত বলতে হয় পাকিস্তানি হ্যাকাররা অনেক আগে থেকে ইন্ডিয়ান সাইট হ্যাকিং এর সাথে যুক্ত, এর সাথে সমসাময়িক বাংলাদেশী হ্যাকিং এর কোন সম্পর্ক নেই।[৩]

ব্যাপারটা একটা ফ্যানাটিক পর্যায়ে চলে এসেছে, কেউ বাহবা দিচ্ছেন, অন্ধ বেকুবরা অযথা গন্ধ পাচ্ছেন। অনেকেই মুল ব্যাপারটাকে পাশ কাটিয়ে যাচ্ছেন। হ্যাকারদের জন্য সাইট হ্যাকিং করার কাজটা গেম খেলার মতই আনন্দের, অনেক হ্যাকাররা হ্যাকিংকে আসক্তির পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। নতজানু পররাষ্ট্র নীতির কারনে দেশের মানুষ রাষ্ট্র ব্যবস্থার উপর আশাহত, তখন এই শৌখিন হ্যাকিং আমার কাছ থেকে বাহবা পায় কারন এই হ্যাকিং এখন আমাদের বাংলাদেশের মানুষের জন্য প্রতিবাদের মাধ্যম। তবে পরিকল্পনা বিহীন এই হ্যাকিং নিয়ে মিডিয়া আর মানুষের আগ্রহ বেশীদিন থাকবেনা। খোদ ইন্ডিয়ান সরকার এই ব্যাপার নিয়ে খুব বেশী চিন্তিত বলে মনে হয় না।

এমেরিকা, চীন, ইসরায়েল এর গোয়েন্দা সংস্থা গুলি,তাদের জাতীয় স্বার্থে  এই ধরনের হ্যাকারদের পৃষ্টপোষকতা করা থাকে। বাংলাদেশের মত দেশের এই ধরনের পৃষ্টপোষকতা আশা করা, বালিতে 'ইয়ে' করার মত, কিন্তু তারপরও নিজেদের সাইবার স্পেস কিভাবে সুরক্ষিত রাখা যায়, এই ব্যাপারে তাদের সহযোগিতা কাম্য। হ্যাকারদেরকে ধন্যবাদ। অল্প সময়ের জন্য হলেও তারা বাংলাদেশকে সাইবার বিশ্বে আত্ম সম্মান এনে দিয়েছেন। বাহবা দেই হ্যাকারদের, আর যারা এই ঘটনাকে পুজি করে, ফায়দা লোটার ধান্দা করছেন, তাদের জন্য অনিষ্ট কামনা করি।
--
১. প্রথম আলো ১৪-০২-২০১২
২. BLITZ
৩. http://www.nagorikblog.com/node/7597
৪. times of india

শনিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১০

সাকা (কমেডি)শো ডাউন : ভাবনা ও আহবান

বর্তমান সরকারের জন্য 'যুদ্ধপরাধীদের বিচার' বড় এজেন্ডা | এই এজেন্ডা গেলো নির্বাচনে আওয়ামীলীগকে জয়ী করার জন্য মহৌষধের কাজ করেছে কারণ এই একটা এজেন্ডা  নতুন ভোটার বিশেষ করে যুব-ভোটারদের সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করেছে| বেশ কয়েক জন বিতর্কিত যুদ্ধপরাধী গ্রেফতারও করা হয়েছে, তার পরও অনেক দাগী আসামি বাইরে রয়ে গেছেন, কারণ তাদের বিরুদ্ধে  এখনো চার্জশিট গঠণ চলছে| যদিও বিচার কাজ নিয়ে এই সরকারের অনেক টালবাহানা চলছে, যা মোটেও কাম্য নয় | 

বিতর্কিত অপরাধীদের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (BNP)এর সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর (সাকা) নাম সর্বাগ্রে আসে, যিনি এখনো বিচার প্রক্রিয়ার বাইরে আছেন, ঢিমে তালে হলেও তাকে গ্রেফতারের বিষয়টি বাংলাদেশের ইলেকট্রনিক মিডিয়াগুলোতে নিয়মিত আলোচনা হচ্ছে| সাকা খুব  ভালো করেই জানেন তাকে ১-১১ এর পর আবারও জেলে যেতে হবে | সাকা Piglet হলে কি হবে, এই হারাম খোরেরও বিচারের কথা শুনলে আত্মা কাপে|

সোমবার, ১১ অক্টোবর, ২০১০

আই পি এল : আমাদের টুর্নামেন্ট নয়

গেলো দিনটা ছিল ১০.১০.১০| দিনটাকে স্মরণীয় রাখার জন্য হুদাই কিছু একটা লেখা লেখি করেছি| ইস্কুলে পড়ার সময় বিশেষ দিনের পত্রিকা আগ্রহ নিয়ে পরতাম , যেমন বছরের প্রথম দিনের পত্রিকা, কালকের পত্রিকাও আমি তেমনি ভাবে পড়েছি, বেশির ভাগ খবর চোখে আটকে আছে| মজার ব্যাপার গতকাল আমি প্রথম কোনো বাংলা ব্লগ প্লাটফর্মে যোগ্ দেই | আমার এই ব্লগের পরবর্তী লেখা গুলো ওই ব্লগিং প্লাটফর্ম আর গতকালের একটা খেলার খবরের যোগসূত্রে তৈরী মতামত |
মূল মতামতে যাওয়ার আগে বলে রাখি আমি ক্রিকেট খেলা দেখিনা | বাংলাদেশের খেলা হলে শুধু স্কোরকার্ড দেখি(এই লেখা যখন ব্লগে পোস্ট দিচ্ছি, ততক্ষণে বাংলাদেশ আর নিউজিল্যান্ডের চলতি সিরিজে বাংলাদেশ ২-০ তে এগিয়ে আছে, বাংলাদেশ দলকে সাধুবাদ জানাই)|
বাংলাদেশ আর নিউজিল্যান্ডের চলতি সিরিজের বাইরে গতকাল আরো একটা খবর ছাপা হয়-

মঙ্গলবার, ১৩ জুলাই, ২০১০

বৃত্তের বাইরে

একটি বিতর্কিত দলের বেশ কয়েক জন শীর্ষনেতা বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনীতি আর খবরের কাগজ গুলোর নিয়মিত শিরোনাম| পাঠকরা নিশ্চই বুঝতে পারছেন কাদের কথা বলা হচ্ছে| নাহ ! রাখ-ঢাক করে লাভ নেই, খোলাখুলিই বলি, এই বিশিষ্ট জনেরা বাংলাদেশের ইসলাম ভিত্তিক সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামাতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃত্ | 
এই পোস্টটাকে আরো সামনে এগোনোর আগে বলে রাখি ফেসবুকে আমার পলিটিকাল ভিউ তে 'লিবারেল' দেওয়া আছে | তাহলে এই একটি ধর্ম ভিত্তিক পুজিবাদী দল কে নিয়ে লেখার দরকার কি?তাও এমন একটা দল যেটা বিতর্কিত এবং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধচারী দল |
সামনে এগোনো যাক- 
বাংলাদেশের এর মতো একটি দুর্নীতিপরায়ন দেশের রাজনৈতিক দলগুলো যতটানা, দেশপ্রেমিক  তার চেয়ে বেশি ব্যবসায়ী মনোভাবের | এই দলগুলো (ডানপন্থী, বামপন্থী, ধর্ম ভিত্তিক, সবই) সবাই নিজেদের কতগুলো 'আদর্শ' বিজ্ঞাপন, বিপণন করে বেড়াচ্ছেন| কেউ নিজেকে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি, কেউবা  সংস্কার পন্থী, কেউ সমাজ তন্ত্রের ধজ্জ্বাধারী, আর কেউ কেউ আছেন ধর্মের আড়ালে লুকিয়ে|  এই বিজ্ঞাপন দেখে প্রলুব্ধ হয়ে আমরা সাধারণ জনগণ নানা ভাবে দ্বিধা-বিভক্ত|  কোনো এক আড্ডায় দুইজন আম জনতার কথোপকথনের উধৃতি দেওয়ার প্রয়োজন মনে করছি|
..................
স্হান : ফার্ম গেট কাল: পহেলা জুলাই, ২০১০
প্রথম ব্যক্তি : এই সরকারের উচিত হয় নাই এদের গ্রেফতার করা.. কি বলেন
দ্বিতীয় ব্যক্তি: ঠিক কাজই করসে, আজ না হয় কাল এরেস্ট হই তই, বিচার হওয়া উচিত.
প্রথম ব্যক্তি : ওরা কি অপরাধ করসে যে বিচার করণ লাগবো
দ্বিতীয় ব্যক্তি: (ক্ষানিকটা খেপে গিয়ে) বিচি কাইটা দেওয়া উচিত
প্রথম ব্যক্তি : (সামান্য রাগান্বিত)আস্তে! আসে পাশে মহিলা আছে.  
দ্বিতীয় ব্যক্তি: গোলাম আজম আমার দাদার দোস্তরে গাছে উল্টা করে ঝুলাইয়া মাথায় আগুন লাগায়া দিসে, টার আগে আমার দাদা বাড়িতে কাফনের কাপড় পাঠায়া ভারতীয় দালাল দের সাথে যোগ দিলে মাইরা ফেলবো - এই লিখা চিঠি দিসে (এ লোকের বাড়ি ব্রাহ্মানবাড়িয়ায়) 
প্রথম ব্যক্তি: মানুষ কত রকম গল্প বানাইসে আজম সাহেবরে নিয়া, যুদ্ধের সময় গোলাম আজম বাংলাদেশেই ছিলো না, আর আপনি বলেন মাথায় আগুন দিসে... আমার চেয়ে গোলাম আজম সম্পর্কে কেউ ভালো জানেনা, তিনি ভাষা আন্দোলনের সময় নিজে স্মারকলিপি পেশ করেছেন, অথচ এই কথাটা কেউ বলেনা
দ্বিতীয় ব্যক্তি: আপনিতো গোলাম আজম সম্পর্কে অনেক জানেন, আচ্ছা বঙবন্ধু  সম্পর্কে কতটুকু জানেন?
প্রথম ব্যক্তি : (সামান্য হচকচিয়ে গেলেন,একটু অপ্রস্তুত ভঙ্গিতে) বঙ্গবন্ধুর ছোট ভাই আবু নাসের- যার নামে এখন খুলনা(বিভাগীয়)স্টেডিয়াম, উনার বাম পা ছোট ছিলো, উনি চোরাচালানি করতো, পুলিশ ধরলে বাম পা বের কৈরা দেখাইতো, পুলিশ ছাইরা দিত |
দ্বিতীয় ব্যক্তি: আবার আপনার কোথায় আসি , মানুষ কত রকম গল্প বানাইসে... আপনি নিজেও তো বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে ভালো জানেন না |
.....................................
বলা বাহুল্য সেদিনের কথোপকথনের আগে গোলাম আজম, বঙ্গবন্ধু আর শেখ আবু নাসের সম্পর্কে আমি নিজেও ভালো জানতাম না| এখন গোলাম আজম ও বঙ্গবন্দু সম্পর্কে মোটামুটি জানি. এই পোস্টের শেষে আমি এই দুই ব্যক্তিত্ব সম্পর্কিত লিঙ্ক দেবো | আবু নাসের সম্পর্কে তেমন কোনো তথ্য পাই নি |


দুই ব্যক্তির কথা শুনে আমর মনে হয়েছে আমরা আম সাধারণ জনেরা কি বিরূপ পরিস্থিতিতে আছি | বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল গুলো খুবই ভাগ্যবান, যে এই দল গুলো বাংলাদেশের জনগনের মাথা খুব সহজেই 'কিনে' নিতে পারছে| আমরা জনসাধারণ না বুঝে তাদের অন্ধের মতো সমর্থন করছি, কেউ ঘুনাক্ষরেও টের পাছিনা , এই দল গুলো পরিকল্পিত উপায়ে আমাদের উপর mind control theory প্রয়োগ করে যাচ্ছে  , আর এই থিউরির সফল প্রয়োগ করেছে জামাতে ইসলামী| এই দলটি তাদের সমর্থক কর্মীদের খুবই স্বল্প তথ্য  জানতে দিচ্ছে(জামাতের কর্মীরা নির্দিষ্ট কিচ্ছু বইয়ের বাইরে অন্য বই পড়েন না বা পড়তে পারেন না)| কর্মীরা জানতে পারছেন না যে তাদের জানার অধিকার খর্ব করা হচ্ছে|ফলশ্রুতিতে, আমরা কারো সম্পর্কে ভালো না জেনে তার সমালোচনা করি , অকারণে বিভিন্ন মতে ভাগ হয়ে যাই|


এই দল গুলো প্রতিবছর বিভিন্ন পশ্চিমা দাতা সংস্থার কাছ থেকে তাদের কর্মী সমর্থকদের 'লিস্টি' দেখিয়ে প্রচুর ডলার আর রিয়াল বাংলাদেশে নিয়ে আসে, তার সিকি ভাগও তারা নেতা কর্মীদের পেছনে ঢালেন না , বরং নিজেরাই ভাগ করে নেন, ছেলেমেয়েদের আর পরিবার পরিজনকে নিয়ে করেন উন্নত জীবন যাপন | 


বৃত্তের ভেতর থেকে শুধু পরিধি পর্যন্ত দেখা যায়, তাই বের হয়ে আসি বৃত্তের বাইরে; আরেকবার ভাবি, সমর্থন করার আগে সমালোচনা করি, নিজের মাথা বিনা পয়সায় বিক্রির আগে নিজের জানার অধিকার সম্পর্কে সচেতন হই| লেখা শেষ করছি সম্প্রতি নাম পরিবর্তন করা একটা মোবাইল কোম্পানির স্লোগান দিয়ে - "জ্বলে উঠুন আপন শক্তিতে"|
----------
শেখ মজিবর রহমান | গোলাম আজম | গোলাম আজম ২ 

রবিবার, ৩০ মে, ২০১০

ফেসবুক কড়চা ১ : বিড়ম্বনা

ইউনিভার্সিটি থেকে বের হয়ে আসার পর সবার সাথে যোগাযোগ রক্ষা করার জন্য মোবাইল ফোনই ভরসা ছিলো.   প্রতি সপ্তাহে একবার করে এক সাথে হবার কথা থাকলেও এত স্পৃহা কারো বেশি দিন টেকেনি . এরই মাঝে 'ফেসবুক' আমদের কে সশরীরে মুলাকাত করার বদলে ভারচুয়াল যোগাযোগের দরজা খুলে দেয়, সবাই ফেসবুক এ আসক্ত হয়ে পরলাম , সবার সাথে মেইল আদান প্রদান অথবা যে কোনো সময় ছোট বার্তা আদান প্রদান নিজের তোলা ছবি নিয়ে মন্তব্য আমাদের যোগাযোগের নতুন মাত্রা এনে দেয় , কাছে না থেকেও সবার অবস্থা জেনে জেতাম  যে কোনো সময় . 


মাঝে মাঝে ইন্টার নেট সংযোগ না থাকলে , সবার কাছ থেকে যতনা ছিন্ন হতাম তার চেয়ে বেশি ছিন্ন হয়ে যেতাম ফেসবুকের ওয়েব সাইট ডাউন হয়ে গেলে . এই ভার্চুয়াল সংস্কৃততে অভ্যস্ত হয়ে পরার পরিনতি ভালো নয় - এই শংকা মনে প্রায় কাজ করতো . আজ এই শংকা সত্যি হয়েছে ,ভালো মতই টের পাচ্ছি এর পরিনতি, কারণ গতকাল(২৯শে মে) স্বন্ধ্যা থেকে বাংলাদেশে ফেসবুক এর সকল কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে সরকার.সুত্র


কারণ হিসেবে বলা হয়েছে সামাজিক অবক্ষয় , ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত - কিন্তু এই কারণ গুলোর বাইরে দুই নেত্রীর ব্যঙ্গ চিত্র প্রকাশ, ফেসবুক বন্ধ করতে সরকার কে বেশি আগ্রহী করেছে বলে আমার মনে হয়েছে . 


বেশ কয়েকদিন ধরে ফেসবুক নানা ভাবে বিতর্কের কেন্দ্র বিন্দুতে - মহানবী(স:)কে নিয়ে কার্টুন, ফেসবুক প্রফাইলএ ব্যক্তিগত  নিরাপত্তা , এসব কারণে পাকিস্তান সরকারও তাদের দেশে এই জনপ্রিয় সামাজিক সাইটটিকে বন্ধ রেখেছে. যদি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের কারনকে মুখ্য দেখিয়ে ফেসবুক বন্ধ রাখতে হয় তাহলে বাংলাদেশ সরকারের উচিত ছিলো আরো আগেই এ ব্যপারে উদ্যোগ নেয়া . রাজনৈতিক নেতাদের(এই খানে পড়তে হবে -নেত্রীদের) ব্যঙ্গাত্মক চিত্র প্রকাশের পর সরকারের চোখ ফুটলো কারণ তাদেরতো "মান -সম্মান" আছে , কিন্তু ফেসবুকে তারা এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে সেটাতো আর সরকারী মিডিয়াতে আসেনা, তাই ফেসবুক বন্ধ করে দেয়াকেই সমাধান মনে করেছেন . 


এই প্রসঙ্গে উল্লেখ করা দরকার, উইকিপিডিয়ায় আমাদের প্রিয় নবীর ছবি দেওয়া আছে(রেফারেন্স লিঙ্ক দিয়ে ওই পেজের হিট বাড়াতে চাচ্ছিনা) যা ধর্মীয় ভাবে নিষেধ, অথচ তখন কোনো মুসলিম প্রধান সরকার এর প্রতিবাদ করেন না , ধর্মীয় অনুভূতিতেও আঘাত লাগেনা. এমনি আরও লাখো ওয়েব সাইট আছে যারা সুকৌশলে বিভিন্ন ধর্মের  বিরুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছে, এই সব ব্লাসফেমীদের নিয়ে কারো মাথা ব্যথা নেই. 


বাংলাদেশে ফেসবুক এর ব্যবহার কারীর সংখ্যা প্রায় চার লাখ. চার লাখই যে ফেসবুকের অপব্যবহার করছে- তা অবশ্যই না ,গুটি কয়েক উঠতি বয়সের  বেয়াদবের জন্য পুরো চার লাখের একটা বিশাল সংখ্যাকে ভোগান্তিতে রাখা হয়েছে . বর্তমান সরকারের একটি জনপ্রিয় উদ্যোগ "ডিজিটাল বাংলাদেশ". বাংলদেশ সরকার যদি তাদের এই 'ডিজিটাল বাংলাদেশ' এর ধারণার বাস্তবিক রূপ দেখতে চান , তাহলে ফেসবুকের মতো কোনো ওয়েব সাইট বাঁধা হবার মতো যোগ্যতা রাখেনা. তাই সাময়িক বন্ধের এই নাটকের শেষ করা হোক. 


পাকিস্তানের আদালত ফেসবুক বন্ধের আদেশ আগামীকাল বাতিল করবে.
ফেসবুকে আমার লগ ইন করার জন্য যে মেইল একাউন্ট দেয়া,  সেখানে প্রায় ত্রিশটার মতো নোটিফিকেশন লিঙ্ক জমা পরে আছে, ক্লিক হবার অপেক্ষায়. দেখি প্রক্সি সার্ভার হয়ে 'ঢোকা' যায় কিনা..