চলতি পথে দেখা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
চলতি পথে দেখা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০১৬

Photo Blog : Nyangabgwe Hill

Photo Blog : Nyangabgwe Hill
Francis Town : Botswana

জিম্ববাবুয়ের রাজধানী হারারে আর বুলাওয়ে শহর দুইটি আমাদের বাংলাদেশীদের কাছে পরিচিত নাম। বাংলাদেশ ক্রিকেট দল জিম্বাবুয়েতে এলে এই দুইটি শহরে ক্রিকেট ম্যাচ খেলে। বতসোয়ানা থেকে এই দুইটি শহরের সাথে রেল যোগাযোগ আছে। বতসোয়ানা থেকে জিম্বাবুয়েতে ঢোকার জন্য ফ্রান্সিস টাউন হয়ে যেতে হয়। ফ্রান্সিসটাউন, বোতসোয়ানার দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং দেশের উত্তর পূর্ব কোণের সবচেয়ে বড় বানিজ্যিক কেন্দ্র এবং যোগাযোগ শহর।
Panoramio
১৮৯৭ সালে, টাটি নদীর তীরে এই শহরের গোড়াপত্তন হয়। তবে টাটি নদী ছাড়াও এই শহরে আরেকটি চোখে ল্যান্ডমার্ক হচ্ছে - ন্যাঙ্গাবগুয়ে পাহাড়(Nyangabgwe Hill)! প্রথম প্রথম এইরকম নাম শুনে আমি নিজেও একটু থতমত খেয়েছিলাম। বতসোয়ানার আঞ্চলিক ভাষা সেতসোয়ানাতে নাম এতো জটিল হয় না, এই পাহাড়ের এমন নাম উচ্চারণ করতে আমাকে প্রথম প্রথম বেশ বেশ বেগ পেতে হয়েছে। তবে আমি যে বাংলাদেশী পরিবারের সাথে ফ্রান্সিস টাউনে ছিলাম, সে পরিবারের তিন স্কুল পড়ুয়া বাচ্চারা খুব সহজেই পাহাড়ের এই নামটা বলতো। নামটা আমি এখনো আত্মস্ত করতে পারিনি। 

Nyangabgwe Hill সকালে বেশ চমৎকার দেখায়। সমুদ্র পৃষ্ঠ হতে প্রায় ১০৮৩ মিটার উচ্চতায় এর অবস্থান। এই পাহাড়ে উঠার জন্য দুই পাশ থেকে দুইটি পথ আছে। এটাই শহরের একমাত্র উম্মুক্ত পাহাড়, বাকি টিলা গুলি বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় ছেয়ে গেছে।  শহরের সবচেয়ে উঁচু স্থান হয়ায়, মোবাইল ফোন কোম্পানি আর সরকারি রেডিও স্টেশনের টাওয়ার এই পাহাড়ের চুড়া দখল করে নিয়েছে। পাহাড়ের দক্ষিণ পাদদেশে সরকারি কর্তাদের জন্য আবাসিক এলাকা করা হয়েছে। বিভিন্ন টাওয়ার আর দক্ষিণের বাড়িঘর পাহাড়ের প্রাকৃতিক ইমেজ হালকা করেছে, তারপরও সকালে বা বিকালে এই পাহাড়ে দল বেঁধে হাঁটার লোকজন কখনো কম হয় না। 

জিম্বাবুয়ে যাওয়ার মেইন রোডের পাশে, শহরের প্রায় মাঝে এই পাহাড়ের অবস্থান। শহরের উত্তর ও দক্ষিণ-প্রায় সব কোণ থেকে এই পাহাড় আমার নজরে পরেছে। তাই আমার কাছে Nyangabgwe Hill এই শহরের আইকন হিসেবে মনে হয়েছে। 
Geotag:  21° 9'7.88"S  27°30'39.96"E | Sight By Walk

বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৩

Jagannath Temple, Comilla

চলতি পথে দেখাঃ কুমিল্লার জগন্নাথ মন্দির

বেশ অনেক দিন থেকে কুমিল্লাতে থাকা হচ্ছে। সাপ্তাহিক ছুটিরদিন গুলিতে কুমিল্লাতে থাকা হয়না, ঢাকায় চলে আসি। কুমিল্লাতে আসার পর থেকে, এই রুটিন আমি নিয়মিত ফলো করে যাচ্ছি। সপ্তাহের মাঝে ছুটি থাকলেও আমার এই রুটিনের হেরফের হয় নি।  স্বাধীনতা দিবসের এই ছুটিতে রুটিনের ব্যাতিক্রম ঘটালাম, রয়ে গেলাম কুমিল্লায়।  কুমিল্লা শহরের আশে পাশে বেশ কিছু জনপ্রিয় প্রত্নত্বাত্তিক নিদর্শন ও ঐতিহাসিক স্থান রয়েছে। ময়নামতি বুদ্ধ বিহার, রানীর মঠ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সেমেটারি-বেশ পরিচিত নাম।

এই নিদর্শন গুলি ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ে থেকে সহজে যাতায়াত করা যায়, তাই এসব স্থানে দর্শনার্থীদের ভীড় বেশী। কুমিল্লাতে এইসব পরিচিত জায়গার বাইরেও একটি গুরুত্বপুর্ন প্রত্নত্বাত্তিক স্থাপনা আছে। জগন্নাথপুরের জগন্নাথ মন্দির। শহরের পুর্বে বিবির বাজার সীমান্তবর্তী স্থল বন্দর যাওয়ার পথে এই মন্দিরের চুড়া দেখা যায়। এই ছুটিতে আমার গন্তব্য জগন্নাথপুর।



জগন্নাথপুর কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের পুর্ব সীমা ঘেষে একটি গ্রাম, এই গ্রামের উপর দিয়ে কুমিল্লা-বিবির বাজার সড়ক , বিবির বাজার সীমান্ত অবধি গেছে। জগন্নাথ মন্দিরটি শহর থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে জগন্নাথপুরে অবস্থিত। এই মন্দিরটি হিন্দু দেবতা জগন্নাথের প্রতি উতসর্গকৃত, তাঁর নাম অনুসারে গ্রামের নাম জগন্নাথপুর। মন্দিরটি জগন্নাথপুর মন্দির, জগন্নাথ দেবের  মন্দির বা সংক্ষেপে "জগন্নাথ মন্দির" নামে সবচেয়ে বেশী পরিচিত।  "সপ্তরত্ন" মন্দির নামেও এর পরিচিতি আছে।   



জগন্নাথ মন্দির, কুমিল্লা তথা বাংলাদেশের অন্যতম পুরোনো মন্দির ও হিন্দু ধর্মীয় স্থাপনা। মুল মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন, ত্রিপুরার "শ্রী শ্রীযুক্ত মহারাজা" রাধা কিশোর মানিক্য  বাহাদুর। মন্দিরটির নির্মান কাজের সঠিক সময়কাল জানতে পারিনি। তবে মহারাজা রাধা কিশোর মানিক্য বাহাদুরের রাজত্ব্যের সময় ও মন্দিরের দেয়ালে অলংকৃত টেরাকোটার ডিজাইন দেখে ধারনা করা হয়, এটি ষোড়শ শতকের স্থাপত্যকর্ম। 

যখন আমি পৌছাই, তখন প্রায় দুপুর। দুপুরের আলোয় মন্দিরের সম্মুখভাগ

উইকিপিডিয়ার প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী এই মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত জগন্নাথ, বলরাম, ও সুভদ্রার মুর্তি প্রকৃত পক্ষে ত্রিপুরার একটি মন্দিরে স্থাপিত ছিল। পরবর্তীতে মুর্তিগুলি এই মন্দিরে নিয়ে  আসা হয়। 

চারতলা বিশিষ্ট উপরে ত্রিকোনাকার এই মন্দিরের একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য আছে, এটি বাংলাদেশের একমাত্র মন্দির যা, অষ্টভুজ আকৃতির ভিত্তির উপর তৈরী। প্রত্যেক তলার বাহিরের অংশ জ্যামিতিক ভাবে অষ্টভুজের আকৃতির অনুসরন করা হয়েছে। কথিত আছে, এই মন্দিরের নিচেও আরেকটি তোলা আছে, যা কালক্রমে মাটির নিচেদেবে গেছে- আমার কাছে এই কথাটির ভিত্তি বেশ দুর্বল- এটা গুজব।মন্দেরের পাশের দীঘিটি মন্দিরের মত পুরোনো। ব্রিটিশ লাইব্রী থেকে পাওয়া ১৮৬৩ সালের স্কেচেও এই পুকুরটি দেখানো হয়েছে।  মন্দিরের নিচ তলা ও প্রথম তলার টেরাকোটা গুলো সম্ভবত নস্ট হয়ে গেছে। কিছু লতা পাতাফুলের টেরাকোটা দ্বিতীয় তলা ও উপরের ত্রিকোনাকার টাওয়ারের গায়ে দেখা যায়। 

ব্রিটিশ লাইব্রেরী



মন্দির থেকে রথ যাত্রা হয়ে থাকে, মন্দিরের পুর্ব পাশের এক ছাউনীতে তিনটা রথের বাহন রয়েছে। এই পাথুরে স্থাপনাটি বাংলাদেশ প্রত্নত্বত্ত অধিদপ্তরের স্বীকৃত পুরাকীর্তি। বর্তমানে পুরনো মন্দিরের পাশে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘের-ISKCON তত্তাবধায়নে নতুন মন্দির ও আশ্রম হয়েছে।





দেখতে সাধারন কিন্তু গুরুত্বপুর্ন এই স্থাপনাটি দেখতে যাওয়ার সবচেয়ে ভাল উপায় হচ্ছে, শহরের চকবাজার এসে ব্যাটারী ট্রাইক ভাড়া নিয়ে জগন্নাথপুর চলে যাওয়া।দল বেধে যাওয়া সবচেয়ে ভাল বুদ্ধি। ট্রাইকগুলিতে একসাথে ৫ জন ধরে, ১০-১৫ টাকা ভাড়া নেয়। 

২৬.০৩.২০১৩
__________

শনিবার, ১৪ আগস্ট, ২০১০

উড়াল যানের তরল রসদ ৩

এই ফিলিং স্টেশন সম্পর্কে যদি না লেখা হয় , তাহলে 'উড়াল..' সিরিজ অপূর্ণ থেকে যায়; কারণ এটাই এ ধরনের প্রথম স্টেশন | এলমার ও হেনরী নিকেল(Nickle) ১৯৩০ সালে প্রথম এমন একটি পেট্রল পাম্পের গোড়া পত্তন করেন, যা পরবর্তিতে জাতীয় ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে গৃহীত হয়েছে| 

পাওয়েল এয়ারপ্লেন স্টেশন

১৯৩০ সালে যখন এই গ্যাস স্টেশনের যাত্রা শুরু হয়, তখন এটা শুধুই একটা পেট্রল পাম্প ছিল, Powell Gas Station(যুক্তরাষ্ট্রে ফিলিং স্টেশন গুলোকে প্রচলিতভাবে গ্যাস স্টেশন বলে) নামে পরিচিতি ভালই ছিল, ১৯৬০ সালের পর এই পেট্রল পাম্পের সাথে সার্ভিসিং যোগ হয়| আমার এই 'উড়াল তরল' সিরিজের সব কয়টি চলতি পথের আকর্ষণ এর উদ্দেশ্য একটাই - চলমান যানবাহন আর লোকজনের দৃষ্টি কেড়ে নেওয়া, নিকেল ভাইরা ব্যপারটা প্রথমে ধরতে পেরে ছিলেন| তবে বাদ বাকি বিমান গুলোর মতো এটা কোনো আসল বিমান ছিলনা, পাম্পের অফিস ঘরটি ছিল উড়োজাহাজের মতো দেখতে(ছবিতে দেখুন)| উড়োজাহাজের মতো দেখতে ঘর বা অফিস বানানোর পেছনে এলমার নিকেল বেশি উত্সাহী ছিলেন| 



এই জায়গা ও স্থাপনা  সংরক্ষণের জন্য স্থানীয়দের সংগঠণও আছে| বর্তমানে পেট্রল পাম্পটা আর সচল নয়, গাড়ী পার্কিং লট হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে| ২০০৪ সালে(১৮ই মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের এই স্হানকে 'ন্যাশনাল রেজিস্টার অব হিস্টোরিক প্লেসেস' এর অন্তর্ভুক্ত করে নেয়|  
......................................

বৃহস্পতিবার, ৫ আগস্ট, ২০১০

উড়াল যানের তরল রসদ ২

পেট্রল স্টেসনের উপর বিশাল কনক্রিটের উড়োজাহাজ এই ধ্যান ধারণা , বাংলাদেশের জন্য নতুন হতে পারে, কিন্তু পশ্চিমা বিশ্বে এমন চমকদার  ভাবনা নতুন নয় | হেমায়েতপুরের ওই ফিলিং স্টেশন দেখে , বেশ কয়েকবার আমার মনে হয়েছে , কোনো এক ইংরেজি চলচিত্রে , এমনি এক পেট্রল পাম্প আগুনে পুড়িয়ে ফেলার দৃশ্য আছে| আমার মন্থর মেমরি ওই ফিল্মের নাম মনে করতে পারেনি| তবে সার্চ ইঞ্জিনে ঠিকই খুঁজে বের করেছি, এমনি একই রকম আরো একটা পেট্রল স্টেশনের সন্ধান পাই, আমেরিকার অরেগন অঙ্গরাজ্যের মিলওয়াকিতে:

 বোম্বার গ্যাস স্টেশন

মিলওয়াকিতে এই পাম্প স্হাপিত হয় ১৯৪৭ সালে, সেই সময় থেকে, এই স্থানটা  জনপ্রিয় ল্যান্ডমার্কের মর্যাদা লাভ করেছে| পাম্পের মালিক আর্থার উইলিয়াম লাসি(Lacey)কে, আরকানসাস থেকে এই B-17 বোমারু বিমানটিকে মিলওয়াকিতে আনতে অনেক ঝক্কি পোহাতে হয়েছে, কোনো ফিল্ম মেকার চাইলে এই গল্প দিয়ে অনায়াসে ছায়াছবি বানাতে পারবেন|
গল্পের শুরু  দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অল্প পরে| এই উদ্ভট গ্যাস স্টেশনের আইডিয়া নিয়ে আর্থার আরকানসাসে পৌঁছান বোমারু বিমান কেনার জন্য, উদ্দেশ্য বোমারু বিমানকে আইকন হিসেবে ব্যবহার করে, গ্যাস(এই খানে পড়তে হবে- পেট্রল) ব্যবসা করবেন| আরকানসাসে তখন সদ্য শেষ হওয়া যুদ্ধের বেচে যাওয়া যন্ত্রের খুচরা বাজার বসানো হয়েছে| এই বিমানটি কিনতে তার ১৫০০০ ডলার গুনতে হয়েছে| বিমান কেনার সময় ঠিক হয়নি ঠিক কোন বিমানটা তিনি নিয়ে যাবেন, মজার ব্যপার এই কথা সেল ইন চার্জকে জিজ্ঞেস করায়, তিনি যে কোনো একটা বিমান উড়িয়ে নেওয়ার অনুমতি পান, কারণ মাইলের পর মাইল পরিত্যক্ত বিমান পরে ছিল সেখানে| 


আর্থার বিমান বি-১৭ বিমান কে বাছাই করার পর দেখলেন , এটা একটা ৪ ইঞ্জিনের বিমান, যা চালানোর অভিজ্ঞতা তার ছিলনা, তাছাড়া এই বিমান একা তার পক্ষে অবতরণ করা কষ্ট সাধ্য ছিল|অতএব, একজন কো-পাইলট দরকার ছিল , কিন্তু তখন কাউকে পাওয়া যায়নি| আবার বি - ১৭ অবতরণের জন্য সব সময় এই বিমানে দুই জন পাইলট থাকা চাই, অগ্যতা আর্থার কো-পাইলটের জায়গায় একটা ডামি বসিয়ে পাম স্প্রিংএর উদ্দ্যেশে, পরে মুখ ঘুরিয়ে ওরেগনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে ছিলেন| তুষার ঝড়ের মধ্যে দিয়ে অরেগন আসার পর, হাইওয়ে কর্তৃপক্ষ কখনই এই বিমান কে রাস্তায় নামানোর অনুমতি দেয়নি| অবশেষে মাঝরাতে মূল রাস্তা ধরে বর্তমান জায়গায় এই বিমানটিকে আর্থার নিয়ে আসেন, এর জন্য তাকে ১০ ডলার জরিমানাও দিতে হয়েছে. 
বর্তমানে, পেট্রল পাম্পটা এর সচল নেই, 'লেডী লাসি'(বিমানটার ডাকনাম, আর্থারের বৃটিশ স্ত্রীর নাম অনুসারে) এখনো  পাশের রেস্টুরেন্টের বিজ্ঞাপন হিসেবে   ব্যবহার হচ্ছে.আর্থার ২০০১ সালে গত হয়েছেন, কিন্তু আর্থারের কিংবদন্তীর সাক্ষী বোমারু বিমানটা এখনো সবাইকে তার কথা মনে করিয়ে দেয়|
...................

বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন, ২০১০

উড়ালযানের তরল রসদ






ঢাকার ভেতরে অথবা বাইরে হাইওয়ের পাশে ইদানিং নতুন নতুন অনেক গ্যাস রিফুয়েলিং স্টেশন হচ্ছে.জ্বালানি হিসেবে রুপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস এর জনপ্রিয়তা বেড়েছে, পাল্লা দিয়ে,  ব্যাঙয়ের ছাতার মতো গ্যাস স্টেসন এর সংখ্যাও বেড়েছে, (পরিসংখানে যাচ্ছিনা); একই সাথে ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতাও বেড়েছ|
এই স্টেসন গুলোর মালিকরা এই অঘোষিত প্রতিযোগিতায় কেও কারো থেকে পিছিয়ে নেই| গাড়ীর চালকদের আকৃস্ট করার জন্য নিচ্ছেন নানা রকমের কৌশল- কেউ পাম্পের অফিসঘরের উপর ঝুলিয়ে দিচ্ছেন বড় রঙ্গিন ঝান্ডা, যাতে হাইওয়েতে অনেক দূর থেকে চালকদের দৃষ্ঠি আকর্ষণ করা যায়| কেউবা রাস্তায় সাইনবোর্ড অথবা দুরত্বপিলার বসাচ্ছেন- “...ফিলিং স্টেসন, ১ কিলোমিটার সামনে”, অনেক ফিলিং স্টেসনের সামনে পতাকা হাতে তাদের লোক দাড়িয়ে থাকতে দেখা যায়, যার কাজ হচ্ছে ট্রাফিক পুলিশের মত গাড়ীকে নিজের স্টেসনে নিয়ে আসা। পাশাপাশি পাম্পগুলোর প্রতিযোগিতা আরো সূক্ষ,গ্রাহকদের ধরে রাখতে তারা তাদের পাম্পের গুণগান লিখে সাইন বোর্ড টাঙ্গান,পাম্পের মেশিনে অথবা টাকার রশিদের নিচে লিখে দেন, সঠিক পরিমাপে তেল অথবা গ্যাস দেওয়া হয়, প্রভৃতি|
দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য কত কিছুই না করা হয়.তবে বিচিত্র উপায়ে দৃষ্টি আকর্ষনের জন্য কারো কারো আইডিয়া চমকপ্রদ, যেমন, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের হেমায়েতপুর মোড়ের উড়োজাহাজ-ওয়ালা স্টেসনটি(নিচের ছবিতে দেখুন)




বলে রাখা ভালো, এটা কোনো আসল বিমান বা উড়োজাহাজ নয়, কিংবা আসল যন্ত্রের খোলসও নয়, সম্পূর্ণ ইট, পাথর, লোহা এর সিমেন্টের ঢালাই করা দেশী রাজমিস্ত্রীদের করা 'শিল্প'কর্ম|ঢাকা থেকে সাভার যাওয়ার পথে, হেমায়েতপুর এলেই, এই বিশাল ঢালাই-যজ্ঞ প্রায় প্রতিদিনই নতুন করে আমার চোখ রাস্তার বাম পাশে টেনে নিত, বলা বাহুল্য এখনো আমি ওই পথে যাওয়ার সময় , ওই স্থানে রাস্তার বাম পাশে তাকাই. এই স্টেসনটা এর আসে পাশের পাম্পগুলো থেকে বয়সে 'নবীন'|সেই পাম্প্ গুলোর বাজার আর সুনাম-দুটোকে একসাথে হাত করতেই কি পাম্প মালিকের এই বিশাল আয়োজন কিনা- কখনো খোজ নিয়ে দেখা হয়নি, কিন্তু উদ্যোগতা সবার দৃষ্ঠি আকর্ষণে সফল হয়েছেন, কারণ অনুসন্ধিত্সু চোখ ব্যতিক্রম খুজবেই|
...................................
এই লেখাটি Sight by Walk ও গুগলআর্থ কমুনিটি ফোরামে প্রকাশিত
Fuel From Plane!পোস্টের বাংলা প্রতিরূপ